আন্তর্জাতিক

সংবাদ পাঠ করতে এসে অভিনব কায়দায় চাইলেন বেতন

দৈনিক বাংলার রাজপথ ডেস্কঃ

বকেয়া বেতনের দাবি আদায়ের অনেক ধরনের কৌশল দেখে থাকবেন হয়তো। কিন্তু সাংবাদিকদের বকেয়া বেতন চাওয়ার এক অভিনব কৌশল দেখলো বিশ্বব্যাপি লাখ লাখ মানুষ। একজন টিভি সংবাদপাঠক পড়তে এসেছিলেন সংবাদ বুলেটিন। অনিয়মসহ দেশের নানা খবর পড়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেদের বেতন বকেয়ার কথা প্রচার করলেন। জানালেন, টিভি চ্যানেলটি তাঁদের বেতন দেয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ায়।ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ওই সংবাদপাঠকের নাম কাবিন্দা কালিমিনা। তিনি কেবিএন টিভি নামের একটি চ্যানেলে কাজে করেন।গত শনিবার সন্ধ্যার সংবাদ বুলেটিন পড়তে আসেন কাবিন্দা কালিমিনা। প্রধান প্রধান সংবাদ শিরোনাম পড়া শুরু করেন তিনি। শিরোনাম পড়ার মাঝখানে বিষয় পরিবর্তন করে টিভি চ্যানেলের কর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার তথ্য প্রচার করেন। ওই ঘটনা বেশ আলোড়ন তোলে।কাবিন্দার সংবাদপাঠের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, কাবিন্দার শুরুটা ছিল স্বাভাবিক। শীর্ষ সংবাদের শিরোনাম পড়ার পর কেবিএন টিভির ওই সংবাদপাঠককে বলতে শোনা যায়, ‘প্রিয় দর্শক, নিউজের বাইরের বিষয় এটি। আমরা মানুষ। আমাদের বেতনের অর্থ দিয়ে চলতে হয়। কিন্তু দুঃখজনক যে কেবিএন আমাদের বেতন দেয়নি। শ্যারনসহ অন্য সবাই, আমি নিজেও বেতন পাইনি। আমাদের বেতন পরিশোধ করতে হবে।এই সাহসী কাজের জন্য কাবিন্দাকে চাকরি হারাতে হয়েছে। টিভি চ্যানেলটি তাঁকে বরখাস্ত করেছে। ওই বোমা ফাটানোর ঘটনা নিয়ে পরে কাবিন্দা একটি ভিডিও শেয়ার করে ফেসবুকে। ভিডিওর সঙ্গে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘হ্যাঁ, আমি টিভি লাইভে এটা করেছি। কারণ, অনেক সাংবাদিক কথা বলতে ভয় পান। সাংবাদিকদের কথা না বলা কোনো কারণ হতে পারে না।ভিডিওটি হাজার হাজার মানুষ দেখেছেন। করেছেন পোস্টও। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী কাবিন্দার ওই সাহসী কাজের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে টেলিভিশনের কর্মীদের বেতন পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছেন।তবে কেবিএন টিভি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, কাবিন্দা যখন সংবাদ পড়ছিলেন, তখন তিনি ‘মদ্যপ ছিলেন’। তাঁর আচরণ নিন্দনীয়। ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে কেবিএন টিভির প্রধান নির্বাহী কেনেদি মাম্বুয়ে বলেছেন, ‘সংবাদ বুলেটিন পড়ার সময় আমাদের একজন চুক্তিভিত্তিক সংবাদপাঠকের উন্মত্ত আচরণ দেখে কেবিএন টিভি কর্তৃপক্ষের লোক হিসেবে আমরা হতবাক।

Related Articles

Back to top button