জাতীয়

প্রথম টি-২০তে পাকিস্তানের ৩১ রানের জয়

 

নটিংহামে রান উৎসব দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। প্রথম টি-২০তে ২০ ওভারে পাকিস্তানের করা ২৩২ রানের জবাবে ইংল্যান্ডের ইনিংস থামে ২০১ রানে। তাতেই বাবর আযমদের জয় ৩১ রানে। তবে এই ম্যাচে আফসোসটা বেশি থাকবে লিয়াম লিভিংস্টোনের। ২ রানের সময় জীবন পাওয়া এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান যে দেশের হয়ে টি-২০তে দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরির রেকর্ড। তবুও পাকিস্তানের বিপক্ষে পেরে উঠল না ইংল্যান্ড।

ট্রেন্ট ব্রিজে শুক্রবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানকে দারুণ সূচনা এনে দেন বাবর ও রিজওয়ান। পাওয়ার প্লেতে আসে ৪৯ রান।

এরপর ব্যাটিংয়ের স্টাইল পরিবর্তন করে বাবর-রিজওয়ান। ৬৮ বলে জুটি ও দলের রান যায় তিন অঙ্কে। ৩৪ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন রিজওয়ান, এর আগেই ৩৫ বলে ফিফটি হয়ে যায় বাবরের।

তাদের জুটি যখন দেড়শ হলো তখনই সাজঘরে ফিরেন রিজওয়ান। এই কিপার-ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসে ৬৩ রান। ৪১ বলে এই রান করতে রিজওয়ান ছয় মারে একটি আর চার ৮টি।

তবে রানের চাকা থামে নি পাকিস্তানের । এর কোনো প্রভাব পড়েনি পাকিস্তানের ইনিংস। শক্তভিত গড়ে দেওয়ায় পরের ব্যাটসম্যানরা হাত খুলে খেলতে থাকেন।

সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে ৮৫ রানে থামেন বাবর। তার ৪৯ বলের অধিনায়কোচিত ইনিংস সাজানো তিন ছক্কা ও আট চারে।

চারে নেমে ৮ বলে ২৬ রানের একটা ছোট্ট ঝড় ইনিংস খেলেন ফখর জামান। তার সমান তিন চার ও এক ছক্কায় ১০ বলে ২৪ রান করেন হাফিজ। তাদের এই ছোট ছোট ক্যামিওতে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ৬ উইকেটে ২৩২ রানে।
বড় রান তাড়ায় এক প্রান্তে ঝড় তোলেন জেসন রয়। অন্য প্রান্তে দ্রুত ফিরেন মালান, জনি বেয়ারস্টো ও মইন আলি।

তিন ছক্কা ও দুই চারে ১৩ বলে ৩২ রান করা রয়কে থামান শাদাব খান। হারিস রউফের বলে ২ রানে মোহাম্মদ হাসনাইনকে ক্যাচ দিয়েও ছক্কা পেয়ে যান লিভিংস্টোন। তারপর থেকে এই অলরাউন্ডারের তাণ্ডব বয়ে গেছে সফরকারীদের উপর দিয়ে।
১৭ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন লিভিংস্টোন। ইংল্যান্ডের হয়ে আগের দ্রুততম ফিফটি ছিল ওয়েন মর্গ্যানের। ২০১৯ সালে নেপিয়ারে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ফিফটি করেন ২১ বলে।

৪২ বলে সেঞ্চুরি করে লিভিংস্টোন ভাঙ্গেন দাভিদ মালানের রেকর্ড। নেপিয়ারের ওই ম্যাচেই ৪৮ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন এই বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। তার সঙ্গে সেভাবে অন্য ব্যাটসম্যানরা তাল মিলাতে না পারায় ইংলিশদের ইনিংস থামে ১৯.১ ওভারে ২০১ রানে।

স্কোর :

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২৩২/৬ (রিজওয়ান ৬৩, বাবর ৮৫, মাকসুদ ১৯, ফখর ২৬, হাফিজ ২৪, আজম ৫*, ইমাদ ৩; উইলি ৪-০-৩৯-১, মাহমুদ ৪-০-৪৬-১, কারান ৪-০-৪৭-২, গ্রেগরি ২-০-২৫-১, পার্কিনসন ৪-০-৪৭-০, লিভিংস্টোন ২-০-২৪-০)

ইংল্যান্ড: ১৯.১ ওভারে ২০১ (রয় ৩২, মালান ১, বেয়ারস্টো ১১, মইন ১, লিভিংস্টোন ১০৩, মর্গ্যান ১৬, গ্রেগরি ১০, উইলি ১৬, কারান ১, মাহমুদ ০*, পার্কিনসন ০; ইমাদ ৪-০-৪৬-১, আফ্রিদি ৩.২-০-৩০-৩, হাসনাইন ৪-০-২৮-১, রউফ ৪-০-৪৪-১, শাদাব ৪-০-৫২-৩)

ফল: পাকিস্তান ৩১ রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তান ১-০তে এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: শাহিন শাহ আফ্রিদি

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
error: Alert: Content selection is disabled!!