ব্রেকিংলিডশোবিজ

চীর বিদায় গণমানুষের কণ্ঠস্বর ফকির আলমগীর

 

বাংলার রাজপথ ডেস্কঃ

দুনিয়া দুই দিনের মেলা, এসেছি একেলা যাবো একেলা, মধ্যে বড়ই মায়ার খেলা, এসেছি একেলা যাবো একেলা।
এই চীর সত্যি কথাকে বরন করে মায়ার খেলা বন্ধ করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীর । শুক্রবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। ফকির আলমগীর ষাটের দশক থেকে সংগীতচর্চা করেছেন। গান গাওয়ার পাশাপাশি বাঁশীবাদক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল। বাংলাদেশের সব ঐতিহাসিক আন্দোলনে তিনি তাঁর গান দিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। ষাটের দশকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এবং থ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। গণঅভ্যুত্থান, ৭১–এর মুক্তিযুদ্ধ ও ৯০–এর সামরিক শাসনবিরোধী গণআন্দোলনে তিনি শামিল হয়েছিলেন তাঁর গান দিয়ে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে সঞ্চিত যন্ত্রণাকে প্রকাশ করার জন্যই দেশজ সংগীতের সঙ্গে পাশ্চাত্য সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি ও তাঁর সময়ের কয়েকজন শিল্পী শুরু করেছিলেন প্রথম বাংলা পপ ধারার গান। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। এ ছাড়া বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি, জনসংযোগ সমিতির সদস্যসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান, ‘আমার কথা, ‘যাঁরা আছেন হৃদয়পটেথসহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। সংগীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ পর্যন্ত পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় ‘একুশে পদক, ‘শেরেবাংলা পদক, ‘ভাসানী পদক, ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার, ‘তর্কবাগীশ স্বর্ণপদক, ‘জসীমউদ্‌দীন স্বর্ণপদক, ‘কান্তকবি পদক ‘গণনাট্য পুরস্কার, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক মহাসম্মাননা, ‘ত্রিপুরা সংস্কৃতি সমন্বয় পুরস্কার, ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড যুক্তরাষ্ট্র, ‘জনসংযোগ সমিতি বিশেষ সম্মাননা, ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড বিশেষ সম্মাননা ও ‘বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ।
ফকির আলমগীর ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় দিনটিতে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো. হাচেন উদ্দিন ফকির, মা বেগম হাবিবুন্নেসা। গণমানুষের অধিকার আদায়ের এক শ্বাশত কণ্ঠস্বর থেমে গেল। আজন্ম গণমানুষের কাতারে থাকা এই শিল্পীর মৃত্যুতে দৈনিক বাংলার রাজপথ পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
error: Alert: Content selection is disabled!!