অপরাধ ও দূর্ঘটনাঢাকারাজনীতিলাইফস্টাইললিড

কে এই হেলেনা জাহাঙ্গীর? কিভাবে হলো নামডাক

 

বাংলার রাজপথ ডেস্কঃ

কথায় আছে যে রাধে সে নাকি চুলও বাধে। তবে কখনও কখনও সব জায়গায় চুল বাঁধতে নেই। বিশেষ করে রান্না করার সময়। তাহলে শাক আর চুল একসাথে ভুঁড়ি ভোজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তখন শাক দিয়ে আর মাছ ঢাকার চেষ্টা করে লাভ নাই। সেটা হবে আমড়া কাঠের ঢেঁকির মতো। যাকে বলে গোড়ায় গলদ। তবে বলদকে গলদ বানিয়ে চোখে কালো কাপড় দিয়ে ঘানি টানাতে পারবেন হয়তো কিন্তু পাপ একদিন না একদিন ঠিকই প্রকাশ পাবে।
তার অনেক পরিচয় আছে, নানা বিশেষণে বিশেষায়িত তিনি। কখনো ব্যবসায়ী, কখনো মানবতাবাদী। কখনো উপস্থাপিকা, আবার কখনো ইউটিউবে নানা বিষয়ের বিশ্লেষক-সমালোচক।একেক সময় একেক রাজনৈতিক মন্ত্রী বা প্রভাবশালীদের সাথে বিভিন্ন সভা মিটিং এর ছবি থাকা। তিনি আর কেউ নন হেলেনা জাহাঙ্গীর। কয়েক বছর আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে মনোনয়ন চেয়ে এবং ‘সিস্টার হেলেন’ নামে রাজধানী জুড়ে পোস্টার সাঁটিয়ে ছিলেন। এ ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। তখন নগরবাসীর মনে প্রশ্ন উঠেছিল- কে এই নারী, যে কিনা বাঘা-বাঘা রাজনীতিবিদদের টেক্কা দিয়ে মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন! মনক হচ্ছে মাদার তেরেসা হওয়ার ব্রত নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
সে সময় জানা যায়, তিনি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, ১৯৯৬ সালে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হন স্বামীর সুবাদে। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের পরিচালক হয়েছেন।মিডিয়াতে সরব হওয়ার জন্য জয়যাত্রা নামে একটি আইপিটিভি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি আইপিটিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদ অলংকৃত করেছেন। যদিও দেশে এই সংগঠনের সরকারি অনুমোদন নেই। আছে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন, যার মাধ্যমে নানা সামাজিক কাজ-কর্ম করেন তিনি। গরীব অসহায়দের পাশে দাঁড়ান, বিতরণ করেন শীতবস্ত্র।

তিনি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার কিছু দিনের মাথায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যও মনোনিত হন। কুমিল্লা উত্তরের আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদও পান তিনি।
সেই যে সিস্টার হেলেন পোস্টার সাঁটিয়ে তিনি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন, তারপর আর থামেননি। রাজনীতিবিদ সেলিব্রিটি, উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি সবার সঙ্গে যখনই সুযোগ পেয়েছেন সেলফি তুলেছেন আর তা নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে সব সময় আলোচনায় থাকতে চেয়েছেন তিনি। ইফতার মাহফিলে গান গেয়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন। মাহফুজুর রহমানের সাথে গান গেয়ে ঝড় তুলেছেন। পরী মনিকে নিয়ে লাইভ করে আলোচনায় থেকেছেন।

সম্প্রতি আবারও তিনি আলোচনায়। আলোচনার নাম চাকরীজীবী লীগ। তার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তিনি। অথচ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে এ ধরনের কোনো সংগঠন নেই। শুধু তাই নয়, ফেসবুকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নেতা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তিনি রীতিমত বিস্মিত করেছেন আওয়ামী লীগ নেতাদের। থেমে থাকেননি আওয়ামী লীগও। হেলেনাকে বাদ দিয়েছে এ ঘটনা দলের নেতাদের চোখে পড়ার পরই।
জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালদা জিয়ার সঙ্গেও হেলেনা জাহাঙ্গীরৈর ছবি আছে। তা নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়। ছবি আছে আলোচিত প্রতারক সাহেদের সঙ্গেও। প্রভাবশালী এমন কেউ নেই যার সঙ্গে হেলেনার ছবি নেই।

অনেকেই বলছেন, হাওয়া ভবন থেকেই তার ব্যবসায়ী হিসেবে উত্থান। শীর্ষ নারী উদ্যোক্তার পুরস্কারও পেয়েছিলেন। তারপর রাতারাতি ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়েন। সেই আওয়ীমী লীগও থেকেও অবশেষে বাদ পড়লেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাতে র‌্যাব তার বাসায় অভিযান চালায়। এর পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আটক করা হয়। র‌্যাবের দাবি, অভিযানে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় বিপুল পরিমাণ মদ, ইয়াবা আর হরিনের চামড়া পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এরই মধ্যে তাকে নেওয়া হয়েছে র‌্যাবের হেডকোয়ার্টারে। তবে গ্রেফতারের পরেও তার মুখে হাসি দেখা গেছে। এবং অনুশোচনা তেমন লক্ষ করা যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
error: Alert: Content selection is disabled!!