সারাবাংলা

আগে সংসার পরে লকডাউন, না খেয়ে মরতে চাই না

অর্থনৈতিক সংকটে জনসাধারণ

মোঃ ফয়সাল আহমেদঃ পেটে খাবার নেই, বাচ্চারা না খেয়ে আছে। টাকা নেই। কাজ নেই,এমন সমস্যায় জর্জরিত এখন সাধারণ মানুষজন। তাদের কাছে লকডাউনের চেয়েও বেশি জরুরি হয়ে দাড়িয়েছে সংসার চালানো। তাই লকডাউনকে উপেক্ষা করেই রাস্তায় বের হতে বাধ্য হচ্ছে তারা। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষজন বলছে, আগে সংসার পরে লকডাউন,না খেয়ে মরতে চাই না।  চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সব ধরনের বিপণিবিতান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা ও চলছে বেঁচা কিনা। বাজারের সড়কগুলোতে রয়েছে সাধারণ মানুষের ভিড়। এ চিত্র মানিকগঞ্জের ঝিটকা বাজারের।

সোমবার সকাল থেকে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে তিনদিনের সীমিত লকডাউন। বৃহস্পতিবার (পহেলা জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে। তবে সেদিন থেকে সর্বাত্মক লকডাউন দেয়া হবে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তিন দিনের এই লকডাউনের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে সরকারি ও বেসরকারি অফিস।এই সময় মার্কেট, শপিং-মল, বিনোদন কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। হোটেল রেস্তোরাঁ খোলা থাকলেও সেখানে বসে খাবার খাওয়া যাবেনা।
করোনার ভয়াবহ প্রকোপ থেকে সাড়া দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সোমবার সকাল থেকে আরও তিন দিনের লকডাউনের ঘোষণা করা হয়। তবে গতকাল ধরে মানিকগঞ্জের ঝিটকা বাজারে লকডাউন চলছে ঢিলেঢালাভাবে।
স্থানীয় লোকজন জানান, লকডাউনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জের ঝিটকা বাজারে বিপণিবিতান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির কারণে এখানে লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর হচ্ছে না।
সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝিটকা বাজার ঘুরে দেখা যায়, হরিরামপুরের মোর,টলার ঘাট, ইছামতী নদীর পাড়, এলাকায় জনসাধারণের ব্যাপক ভিড়। বাজারের প্রতিটি সড়কে ছিল অটোরিকশার দৌরাত্ম।
বাজারের ক্রেতারা কয়েকজন বলেন, বাজারের কোথাও কার্যকর লকডাউন নেই। দোকানপাট খোলা। যানবাহন চলছে। প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। শুধু বন্ধ সরকারি অফিস-আদালত। সরকার একদিকে লকডাউনের কথা বলছে, অন্য সবকিছু চলছে আগের নিয়মে। এ লকডাউন হাসি-তামাশায় পরিণত হয়েছে।
ঝিটকা বাজারের কাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে মুদি, কাঁচা সবজি,মাছ, চাউল, বিক্রির সকল দোকানে গিয়ে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। মুখে মাস্ক ছাড়াই ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন বিক্রেতারা ।
দোকানরা গণমাধ্যমকে জানান বেঁচে থাকার তাগিদে ঝুঁকির নিয়ে আমারা ব্যবসা পরিচালনা করছি কারণ গত বছর থেকে লকডাউনের ফলে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করা খুব কঠিন হয়ে পরেছে। আমরা ব্যবসায়ী অনেক লোকসানে পড়েছে, সরকার আমাদের কোনো সহায়তা করে না।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল লতিফ বলেন, সর্বাত্মক লকডাউন পালনের জন্য প্রশাসন ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়নে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাঁরা লকডাউন অমান্য করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
error: Alert: Content selection is disabled!!