সারাবাংলা

অক্সিজেনসহ ছেলেকে আটকে রাখলো পুলিশ, অক্সিজেনের অভাবে মারা গেলো বাবা

নিউজ ডেস্ক

বরাবরই পুলিশের অপেশাদার আচরনের জন্য সাধারণ মানুষকে সইতে হচ্ছে যন্ত্রণা। যেমন কিছু মানবিক পুলিশ আছে তেমনি রয়ে যাচ্ছে কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাও।
সেই অসাধু এক পুলিশ কর্মকর্তার জন্য এবার প্রান হারালো এক বাবা। ঘটনাটি ঘটে সাতক্ষীরায়।
সাতক্ষীরায় অসুস্থ বাবার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যাচ্ছিলেন ছেলে। যাওয়ার পথে শহরের ইটাগাছা হাটের মোড়ে এএসআই সুভাষ চন্দ্র ঐ ছেলেকে আটক করে। প্রায় দুইঘণ্টা ওই ছেলেকে আটকে রাখেন। ছেলে বারবার বলা সত্বেও ছারেন নি। তাই অক্সিজেনের অভাবে তার বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অক্সিজেনের অভাবে মারা যাওয়া ব্যাক্তির নাম রজব আলী মোড়ল (৬৫)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈচনা গ্রামের বাসিন্দা। করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনি বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
অক্সিজেন সংকটে মারা যাওয়া ওই বৃদ্ধের ছেলে ওলিউল ইসলাম জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে অসুস্থ ছিলেন আমার বাবা। জরুরী অক্সিজেন প্রয়োজন হওয়ায় সাতক্ষীরা থেকে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বেলা দশটার দিকে ইটাগাছা হাটের মোড়ে পৌঁছালে তাকে আটক করেন ইটাগাছা ফাঁড়ির এএসআই সুভাষ চন্দ্র।
তিনি আরও জানান, লকডাউনে বাইরে বেরিয়েছে বলে পুলিশ তার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু সে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাকে দুই ঘণ্টা সেখানে আটকে রাখা হয়। পরে ইটাগাছা এলাকার জনৈক জিয়াউল ইসলামের মধ্যস্থতায় ২০০ টাকা নিয়ে এএসআই সুভাষ তাকে ছেড়ে দেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। বাড়িতে যেয়ে দেখেন পিতা অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন।
আবেগআপ্লুত কণ্ঠে ওলিউল বলেন, যদি সময় মতো অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বাড়িতে যেতে পারতাম তাহলে হয়তো বাবাকে বাঁচাতে পারতাম। তিনি এই অমানবিক ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে এমন ঘটনায় বরাবরই প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে, এই লকডাউনে সাধারণ মানুষ যে অসাধারণ যন্ত্রণায় পরে আছে। তার মাজে এমন কর্মকাণ্ডের ফলে আরো চিন্তিত হয়ে পরেছে সাধারণ মানুষজন।

Related Articles

Back to top button